ঢাকা ১০:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

কুমিল্লায় আ.লীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, মামলার আসামি ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৮ জন

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা অজি উল্লাহকে (৫৫) নামে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় লক্ষণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মহিন উদ্দিন চৌধুরী, তার ৪ ভাইসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের স্ত্রী। নিহত অজিউল্লাহ লক্ষণপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মড়হ গ্রামের মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে। তিনি ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদে ছিলেন। মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুল কবির সমকালকে বলেন, সোমবার গভীর রাতে নিহতের স্ত্রী শাহানারা বেগম মোবাশ্বেরা বাদী হয়ে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় এজাহারভুক্ত ৮ জন ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। নিহতের ছেলে মহসিন মিয়া সমকালকে বলেন, চেয়ারম্যান মহিন উদ্দিন চৌধুরী আমাদের এলাকার মড়হ বাজার থেকে গ্রামের পশ্চিম পাড়া পর্যন্ত একটি রাস্তা নির্মাণ করছিলেন। রাস্তাটি পাকা হবে, এজন্য গত কয়েকদিন ধরে মাটি ফেলে এটি সম্প্রসারণ করছিলেন তিনি। সোমবার সকাল ৯টার দিকে চেয়ারম্যান তার লোকজন নিয়ে রাস্তার এক পাশে থাকা আমাদের জমি থেকে মাটি কেটে রাস্তা বড় করার কাজ শুরু করেন। এ সময় বাবা তাকে (চেয়ারম্যান) বাধা দিলে এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান বাড়ি চলে গিয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় করে তার শতাধিক লোকজন নিয়ে আমাদের বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। তিনি আরও বলেন, ‘হামলার একপর্যায়ে প্রাণে বাঁচতে বাবা বাড়ির পাশের ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে পড়লেও সেখান থেকে তাকে খুঁজে বের করে পিটিয়ে আহত করে চেয়ারম্যান ও তার লোকেরা। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়েপড়লে চেয়ারম্যান তার লোকজন নিয়ে চলে যায়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বাবাকে মৃত ঘোষণা করেন।’ মনোহরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, ‘নিহত অজিউল্লাহ আমাদের দলের ওয়ার্ড নেতা ছিলেন। ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দলীয় লোকজন বাড়িতে গিয়ে সান্তনা দিয়ে এসেছি। যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তারাও আমাদের দলেরই লোক, যেহেতু এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে, এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।’ অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মহিন উদ্দিন চৌধুরীর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। ওসি মাহাবুল কবির বলেন, ‘ঘটনার পরই জড়িতরা এলাকায় নেই। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তবে এ মামলায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।’

Tag :

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Update Time : ০৮:৩৩:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২২

কুমিল্লায় আ.লীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, মামলার আসামি ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৮ জন

Update Time : ০৮:৩৩:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২২

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা অজি উল্লাহকে (৫৫) নামে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় লক্ষণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মহিন উদ্দিন চৌধুরী, তার ৪ ভাইসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের স্ত্রী। নিহত অজিউল্লাহ লক্ষণপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মড়হ গ্রামের মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে। তিনি ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদে ছিলেন। মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুল কবির সমকালকে বলেন, সোমবার গভীর রাতে নিহতের স্ত্রী শাহানারা বেগম মোবাশ্বেরা বাদী হয়ে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় এজাহারভুক্ত ৮ জন ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। নিহতের ছেলে মহসিন মিয়া সমকালকে বলেন, চেয়ারম্যান মহিন উদ্দিন চৌধুরী আমাদের এলাকার মড়হ বাজার থেকে গ্রামের পশ্চিম পাড়া পর্যন্ত একটি রাস্তা নির্মাণ করছিলেন। রাস্তাটি পাকা হবে, এজন্য গত কয়েকদিন ধরে মাটি ফেলে এটি সম্প্রসারণ করছিলেন তিনি। সোমবার সকাল ৯টার দিকে চেয়ারম্যান তার লোকজন নিয়ে রাস্তার এক পাশে থাকা আমাদের জমি থেকে মাটি কেটে রাস্তা বড় করার কাজ শুরু করেন। এ সময় বাবা তাকে (চেয়ারম্যান) বাধা দিলে এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান বাড়ি চলে গিয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় করে তার শতাধিক লোকজন নিয়ে আমাদের বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। তিনি আরও বলেন, ‘হামলার একপর্যায়ে প্রাণে বাঁচতে বাবা বাড়ির পাশের ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে পড়লেও সেখান থেকে তাকে খুঁজে বের করে পিটিয়ে আহত করে চেয়ারম্যান ও তার লোকেরা। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়েপড়লে চেয়ারম্যান তার লোকজন নিয়ে চলে যায়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বাবাকে মৃত ঘোষণা করেন।’ মনোহরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, ‘নিহত অজিউল্লাহ আমাদের দলের ওয়ার্ড নেতা ছিলেন। ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দলীয় লোকজন বাড়িতে গিয়ে সান্তনা দিয়ে এসেছি। যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তারাও আমাদের দলেরই লোক, যেহেতু এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে, এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।’ অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মহিন উদ্দিন চৌধুরীর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। ওসি মাহাবুল কবির বলেন, ‘ঘটনার পরই জড়িতরা এলাকায় নেই। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তবে এ মামলায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।’