নোয়াখালীতে ৯৫ বছরের বৃদ্ধার জমি দখল
নোয়াখালীতে ৯৫ বছরের বৃদ্ধার মাদ্রাসাকে দান করা জমি দখল, এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ..
নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে ৯৫ বছরের স্বামী- সন্তানহারা এক বৃদ্ধা মহিলার বিপুল পরিমান জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে।
বৃদ্ধা মহিলা ও গ্রামবাসীরা জানায়, বৃদ্ধার স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তির ৬৬ শতাংশ সম্পত্তি যাহা লুৎফুন নাহার মহিলা মাদরাসার নামে দান করা, সেই সম্পত্তি বৃদ্ধার পালিত মেয়ে সামসুন নাহার ও মেয়ের জামাই মো: নাসির বৃদ্ধাকে প্রতিনিয়ত মারধর করে জাল কবলার মাধ্যম গ্রামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেয়। এখন প্রভাবশালী ঐ ব্যক্তি বিভিন্ন মহলের সহযোগীতায় মাদরাসার জমি দখলের চেষ্টা করছে।
সন্তানের বিরুদ্ধে দানের সম্পত্তি বিক্রির অভিযোগ মায়ের : মসজিদ ও মাদ্রাসায় মায়ের দান করা সম্পত্তি ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে পালক মেয়ের বিরুদ্ধে। মা লুৎফুন নাহারের অভিযোগ, আমারর পালক মেয়ে শামসুন নাহার ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে দানকৃত সম্পত্তি বিক্রি করেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শামসুন নাহারের দাবি, সকল সম্পত্তি আমাকে দান করেছেন। আমি সেখান থেকে বিক্রি করছি।
শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকালে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শরীফপুর গ্রামের লুৎফুন নাহার মহিলা মাদরাসার সামনে দানের সম্পত্তি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেন তিনি। এসময় স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী মানববন্ধনে অংশ নেন।
জানা গেছে, লুৎফুন নাহারের স্বামী মৌলভী সৈয়দ আহমেদ প্রায় ৩০ বছর আগে মারা যান। মৃত্যুর আগে সকল সম্পত্তি মৌলভী সৈয়দ আহমেদ তার স্ত্রী লুৎফুন নাহারের নামে লিখে দেন। যার পরিমাণ ছিল প্রায় দুই একর। স্বামীর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী লুৎফুন নাহার তার কিছু সম্পত্তি মাদরাসা মসজিদে দান করেন এবং কিছু সম্পত্তি বর্গা দিয়ে মাদরাসা পরিচালনা ও নিজের খরচ চালাতেন। ২০১৫ সালের ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে পালক মেয়ে তার স্বামী নাসির উদ্দিনের মাধ্যমে প্রায় এক একর জায়গা বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রি করেছেন।
বৃদ্ধা লুৎফুন নাহার বলেন, আমার স্বামী আমার নামে সম্পত্তি দিয়ে গেছেন। আমাদের কোনো ছেলে মেয়ে নাই। একটা পালক মেয়ে ছিল। আমার স্বামী মরে যাওয়ার আগে বলে গেছে তার সম্পত্তি যেন মসজিদ মাদ্রাসা নির্মাণ করি। আমি সব দান করেছি। সেখানে দুটা মাদরাসা স্থাপন করেছি। আমার পালক মেয়ে তার স্বামীসহ আমাকে মারধর করে ভয় দেখিয়ে জমি বিক্রির সাক্ষর নিতে চেয়েছিল। আমি পালিয়ে তার বাড়ি থেকে চলে এসেছি।
তিনি আরও বলেন, আমাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ দিয়ে আমাকে ভয় দেখানো হচ্ছে। আমার নিরাপত্তা চাই। আমার দানকৃত সম্পত্তি যেন দান হয় সেটা চাই। আমার দানকৃত সম্পত্তি যেন কবুল হয়। আমি তা চাই। আপনারা সহযোগিতা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম বলেন, লুৎফুন নাহারের কোনো সন্তান ছিল না। একটা পালক মেয়ে আছে। সেই পালক মেয়ে তার স্বামীসহ এসব সম্পত্তি জবর দখল করে কম দামে বিক্রি করছে। আমরা এলাকাবাসী এটার সুষ্ঠু নিরপেক্ষ বিচার চাই।
সাবেক ইউপি সদস্য মো. জসিম উদ্দিন বলেন, পালক মেয়ের জামাই একটা ভূয়া দলিল সৃষ্টি করেছে। একটা প্রভাবশালী পক্ষের সহযোগিতায় জোরপূর্বকভাবে এসব দানকৃত জমি দখলের চেষ্টা করছে। এটা নিয়ে মানুষদেরকে হয়রানি করছে। আমরা এটার প্রতিবাদ জানাই এবং সুষ্ঠু বিচার চাই।
বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিনুল হাসান বলেন, আমি বিষয়টি জেনেছি। বৃদ্ধা মহিলা যদি লিখিত অভিযোগ দেয় তাহলে আমরা খোঁজ খবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।















