পরকীয়া প্রেমে কুমিল্লায় ২১বছরের যুবকের সাথে ৪২বছরের মহিলা বিয়ে, এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি!
মোঃ সাকিব মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা):-
প্রেম বুঝেনা জাত-কূল, প্রেম বুঝেনা বয়স! মনের মিলনে বয়স বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি শামীম-রোকসানার জীবনে। এমনকি বাধা হতে পারেনি রোকসানার দীর্ঘ ২৪ বছর সংসার, স্বামী, দু’পুত্র সন্তানের মায়াও! ৫ বছর ধরে পরকিয়া প্রেম, অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ঠেঙ্গারবাম গ্রামে আবদুর রশিদের ছেলে মোঃ শামীম (২১) ও একই গ্রামের মোঃ লিটনের স্ত্রী রোকসানা (৪২)। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। জানা যায়, গত ২৪ বছর আগে মনোহরগঞ্জ উপজেলার ঠেঙ্গারবাম গ্রামের মৃত রফিক মেম্বারের ছেলে লিটনের সাথে উত্তর ফেনুয়া গ্রামের আবদুস সাত্তারের মেয়ে রোকসানার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবন ভালোই কাটে তাদের। দাম্পত্য জীবনে তারা দু’পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়। তাদের বড় ছেলের বয়স ২৩ বছর। লিটন এইচ.আর ট্রান্সপোর্টে ড্রাইভার হিসেবে চাকুরী করতেন। গত ৮ বছর পূর্বে লিটন সড়ক দূর্ঘটনায় মারাত্মক ভাবে আহত হয়ে গ্রামের বাড়িতে স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করেন। লিটনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটলে ৬ বছর আগে একটি পিকআপ কিনে। লিটন নিজেই পিকআপটি চালাতেন, শামীমকে রেখেছেন হেলপার হিসেবে। এ সুবাদে শামীম লিটনের বাড়ীতে আসা-যাওয়া করতো। ধীরে ধীরে লিটনের স্ত্রী রোকসানা ও শামীম পরস্পরের সাথে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়ে। গত কয়েক মাস থেকে বিষয়টি আলোচনা/জানাজানি হলে লিটন এলাকার বিভিন্ন গন্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি জানান এবং রোকসানাকে এককভাবে ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেন। কিন্তু রোকসানা স্বামীর আবেদনে সাড়া না দিয়ে গত মাসাধিকাল আগে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে আপন সংসার ছেড়ে বাপের বাড়িতে অবস্থান করে। অবশেষে গত ১১ অক্টোবর বুধবার রাত ৯টায় উভয় পক্ষের অভিভাবক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ৪২ বছরের রোকসানা ২১ বছরের শামীমের সাথে ২ লক্ষ দেনমোহরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিষয়টি এখন টক অব দ্যা মনোহরগঞ্জে পরিণত হয়েছে। আলোচিত এ বিয়ের বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেছেন শামীমের বাবা আব্দুর রশিদ, উত্তর হাওলা ইউনিয়নের কাজী মোঃ আলমগীর হোসেন, স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ বাচ্চু, মহিলা মেম্বার কাজল রেখাসহ স্থানীয় লোকজন। তবে শামীমের বাবা আব্দুর রশিদ বিয়ের কথা স্বীকার করলেও এ বিয়ে মেনে নিতে রাজি নন তিনি। শামীমের বাবা বলেন আমার ৪ মেয়ে ১ ছেলে। আমার এ একমাত্র ছেলেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। লিটন আমার বাড়ির পার্শ্বের লোক হওয়ায় আমার ছেলেকে তার কাছে ড্রাইভিং শিখার জন্য দিয়েছিলাম। কিন্তু সে যে কাজ করেছে তা আমাদের লজ্জিত করে। তার এমন কাজে, তাকে নিয়ে আমাদের যে স্বপ্ন ছিল, তা শেষ হয়ে গেল।










